শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের জামলাবাজ গ্রামে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জোরপূর্বক ধান কর্তনের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার সকালে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোক্তার আলী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শান্তিগঞ্জ থানায় একটি মামলাও চলমান রয়েছে। জোরপূর্বক ধান কর্তনের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী জামলাবাজ গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে মুক্তার আলী, আশাদ আলী, জাহেদ আলী ও এরশাদ আলীর দাবি, ৫৩৪ নং খতিয়ানের ২৬৬৬ নং দাগের ৩০ শতাংশ জমি প্রায় ৩০ বছর আগে আব্দুল লতিফের কাছ থেকে দলিলমূলে ক্রয় করেন।
এরপর থেকে তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছেন। সব সময়ের মতো এবছরও এই জমি চাষ করেছিলেন তারা।
অথচ একই গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে ফরিদ উদ্দিন ওই জমির মালিকানা দাবি করে সুনামগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি আর ৩১৭/২০২৬ নং মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ১৪৪ ধারা জারি করে শান্তিগঞ্জ থানায় নোটিশ পাঠান। নোটিশ পাওয়ার পর শান্তিগঞ্জ থানার এসআই আল আমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে জমির ধান না কাটার নির্দেশ দেন। নির্দেশ অমান্য করে মঙ্গলবারে সেই ধান জোরপূর্বক কেটে নেন অভিযুক্তরা।
মুক্তার আলীর ছেলে জিবান আহমেদ বলেন, “ফরিদ উদ্দিন ও তার লোকজন আমাদের জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। আমাদের সন্তানরা তাদের বাড়ির পাশ দিয়ে স্কুল-মাদরাসায় যাতায়াত করে। ভয়ের কারণে তারা এখন ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারছে না।”
সকল অভিযোগ অস্বীকার করে ফরিদ উদ্দিন বলেন, “আমি (এসএ) রেকর্ডভুক্ত মালিক মুছিম উল্লাহর ওয়ারিশদের কাছ থেকে দলিলমূলে জমি ক্রয় করেছি। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন ছিল এবং আমি আমার পক্ষে রায় পেয়েছি। তাই নিজের জমির ধান কেটে নিয়েছি।”
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার রাকিব বলেন, আদালত এই জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। ফরিদ উদ্দিন পক্ষের লোকজন রিসিভার চেয়েছেন। অর্থাৎ তৃতীয়পক্ষ কর্তৃক ধান কাটার অনুমোতি চেয়েছেন। পরে তারা নিজেরাই ধান কাটা শুরু করেন।
খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ধান উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য (প্যানেল চেয়ারম্যান) সবুজ মিয়ার কাছে গচ্ছিত রেখে এসেছি। পরে আদালত যার পক্ষে রায় দিবেন তাকে ধান বুঝিয়ে দেওয়া হবে। কোনো রকমের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি যেনো না হয় সেদিকে আমাদের সজাগ দৃষ্টি আছে৷
তবে প্যানেল চেয়ারম্যান সবুজ মিয়া বলেন, গত অগ্রাহায়নে দু’ক্ষের ঝামেলা হয়েছিলো সময় আমার কাছে কিছু ধান গচ্ছিত আছে। সম্প্রতি বা বৈশাখী ধান নিয়ে ঝামেলার কোনো খবর আমি জানিও না, কোনো ধান আমার কাছে গচ্ছিত নেই।।